হ্যাপি বার্থডে গানটি যেভাবে তৈরি হল (Happy Birthday song history bangla)

হ্যাপি_বার্থডে_টু_ইউ_গানের_ইতিহাস
Picture source : rawpixel.com


হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে "হ্যাপি বার্থডে টু ইউ," ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় গান হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্তত 18টি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় এটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে, এটি অনুষ্ঠান উদযাপনকারী অন্যান্য অতিথিদের দ্বারা জন্মদিনের ব্যক্তির জন্য গাওয়া হয়। উল্লেখ্য যে এই গানে ব্যবহৃত সুরটি 19 শতকের শেষের দিকে তৈরি এবং এটি "গুড মর্নিং টু অল" গানটির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।


গানটি যেভাবে তৈরি হল

আমেরিকায় বসবাসকারী দুই বোনের অবদান পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। যদিও গানটির উৎস সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে, তবে এটি সাধারণত দুই বোন - প্যাটি এবং মিলড্রেড জে হিল দেরই অবদান মানা হয়। লুইসভিল এক্সপেরিমেন্টাল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করার সময়, মিলড্রেড গানটির সুর রচনা করেছিলেন এবং প্যাটি গানের কথা (গুড মর্নিং টু অল) তৈরি করেছিলেন। 

গানের কথাটি কিন্তু ভিন্ন ছিল অর্থাৎ হ্যাপি বার্থডে টু ইউ এর পরিবর্তে সেখানে ছিল গুড মর্নিং টু অল। গানের সুর ছিল অপরিবর্তিত।


পরিবর্তিত হতে থাকে

পরবর্তীতে গানটি 1893 সালে কিন্ডারগার্টেনের গান আকারে প্রকাশিত হয়। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের দ্বারা প্রতিদিন সকালে ক্লাসের শুরুতে গানটি গাওয়া হতো। বইটি প্রকাশের পর, প্রবণতাটি পরিবর্তিত হয়। শিশুরাও তাদের শিক্ষকদের জন্য গানটি গাইতো এবং ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে গানের কথাগুলি পরিবর্তিত হতে থাকে।

মনে করা হয় এইভাবে গানের কথাগুলি পাল্টাতে পাল্টাতে হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গানটি তৈরি হয়।


জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে

1924 সালে গানটির সুর অপরিবর্তিত রেখে কথাগুলি পরিবর্তন করে একদম নতুন একটি গান সহ আগের সংস্করণটিও প্রকাশিত হয়েছিল। রবার্ট এইচ. কোলম্যান এটির সম্পাদনা করেছিলেন। নতুন গানটি মূল গান "গুড মর্নিং টু অল" এর বিকল্প হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রকাশের পর ধীরে ধীরে হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গানটি তার আগের সংস্করণকে জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে যেতে শুরু করে।


প্রতিবাদ জানান

মিলড্রেড এবং প্যাটির তৃতীয় বোন জেসিকা হিল হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গানটিতে "গুড মর্নিং টু ইউ" এর সুর ব্যবহারের জন্য প্রতিবাদ জানান। অবশেষে, তিনি 1935 সালে ক্লেটন এফ. সামি কোম্পানির সহায়তায় গানটির ওপরে কপিরাইট প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তবুও, আদালতের সিদ্ধান্তে, কপিরাইট শুধুমাত্র সুরের সাথে জড়িত ছিল, গানের কথার ওপর নয়। 


আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য


হ্যাপি বার্থডে - র কপিরাইট 

তবে এই কপিরাইটের অধিকার ১৯৮৮ সালে ক্লেটন এফ. সামি কোম্পানি বিক্রি করে দেয় ২৫ মিলিয়ন ডলারে। নতুন মালিক ওয়ার্নার চ্যাপেল মিউজিক কোম্পানি ২০৩০ সাল অব্দি কপিরাইট কে বলবত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

আর এই সময়ে রয়েলটি না দিয়ে কেউ গানটিকে ব্যবহার করতে পারতো না। আর সেটা করলে তাকে উপযুক্ত পেনাল্টি দিতে হতো। এই সময়ে এই গানটিকে একবার ব্যবহার করতে চাইলে তার রয়েলটি ছিল ৭০০ ডলার। তাই এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী গান হয়ে দাড়ায়।


আদালতের রায়

তবে 2015 সালে আমেরিকা থেকে কপিরাইট তুলে নেয়ার জন্য আদালত রায় দেয়। আদালতের রায় অনুযায়ী সুর এবং গানের পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পিয়ানো সংস্করণ কে কপিরাইটের আওতায় রাখা হয়। এবং গানটির নতুন ওনাররা 2016 সালে 14 মিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। অপরদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে কপিরাইট উঠে যায় ২০১৭ সালে। 


USA Today এর মত

USA Today এর মত অনুযায়ী সুর এক থাকলেও কথাগুলি পরিবর্তন হয়ে যায় এবং তা হয়ে যায় বিশ্ব বিখ্যাত একটি গান। আর এই কথাগুলোর পরিবর্তন হয় ওই কিন্টার গার্ডেন্স স্কুলের ছাত্রদের মাধ্যমে। অর্থাৎ তারা মাঝেমধ্যে গুড মর্নিং টু ইউ অল গানটির কথাগুলি পরিবর্তন করে হ্যাপি বার্থডে টু ইউ কথাগুলি যুক্ত করে একই সুরে গাইতো।


আজকের লেখাটি (হ্যাপি বার্থডে গানটি যেভাবে তৈরি হল (Happy Birthday song history bangla) ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমাদের মন জংশন ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ