দক্ষিণের সেরা খলনায়ক রঘুবরণ এর জীবনী (South Indian actor Raghuvaran biography)

রঘুবরণ_এর_জীবনী
Picture source : tamilstar.com


দক্ষিণের সেরা খলনায়ক রঘুবরণ

সাধারণ মঞ্চ অভিনেতা থেকে হয়ে উঠলেন দক্ষিণের সেরা খলনায়ক এবং নায়ক। দুটো ভূমিকাতেই সমান ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেন। কিন্তু অত্যাধিক মদ্যপান শেষ করে দিল সবকিছু।


জন্ম

বিখ্যাত অভিনেতা রঘুবরণের জন্ম ১৯৯৮ সালে কেরালার পালাক্কার জেলার কোলেনগড়। চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। তার পরিবার কোয়েম্বাটুরে চলে যায় যখন তার বাবা তার হোটেল ব্যবসা মাথুর থেকে কোয়েম্বাটুরে স্থানান্তরিত করেন। 

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কোয়েম্বাটোর এর স্টানেস অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। এছাড়াও তিনি ট্রিনিটি কলেজ লন্ডন থেকে পিয়ানো শিখেছিলেন। 


শিক্ষা ও কাজ

অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি কোয়েম্বাটোর (সরকারি আর্টস কলেজ) থেকে ইতিহাসে তার ব্যাচেলর অফ আর্টস পড়া বন্ধ করে দেন। আর চেন্নাইয়ের এম জি আর গভর্নমেন্ট ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে অভিনয়ে ডিপ্লোমা করেন।

শুরুর দিকে রঘুবরণ অনেক কলিউড স্টুডিওতে অভিনয় এর জন্য যোগাযোগ করেন এবং অবশেষে নায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন।

চূড়ান্ত অভিনয় দক্ষতা এবং গম্ভীর কণ্ঠ তাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। তখনকার লিডিং অ্যাক্টরদের সমকক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। অসাধারণ কাজের জন্য তিনি তামিল ছাড়াও তেলেগু, মালায়ালাম, হিন্দি ছবিগুলোতেও সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন। জীবনে প্রায় দুশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

সাধারণ একজন মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করলেও ১৯৮২ সালে প্রথম তামিল চলচ্চিত্র এলাভাথু মনিথান ছায়াছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অসামান্য কাজের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন। তার জীবনের সেরা কাজ গুলির মধ্যে পরিচালক মনি রত্নমের অঞ্জলি ছায়াছবিটিতে একজন অটিস্টিক শিশুর পিতা হিসেবে সমালোচকদের প্রশংসা কুরিয়েছেন। 

চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি টেলিভিশনেও সমান দক্ষতার সাথে অভিনয় করেছেন। ১৯৯২ সালে একটি বিশেষ অভিনয় দৃশ্যের জন্য রঘুবরণ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে অভিনয় করেছিলেন।


আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য


ব্যক্তিগত জীবন

রঘুবরণ ১৯৯৬ সালে সহ অভিনেত্রী রোহিনী মোলেতিকে বিবাহ করেন। ১৯৯৮ সালে তাদের ছেলে সাই ঋষিবরণ জন্ম গ্রহণ করেন। তবে তাদের বিবাহিত জীবন ২০০৪ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। 


জীবনাবসান

ধানুস এবং নয়ন তারা অভিনীত ইয়ারাদি নি মোহিনী ছবিটিতে একটি দৃশ্যে রঘুবরণ কে দেখানো হয় তিনি ঘুমের মধ্যে মারা যাচ্ছেন। অভিনয়ের দৃশ্যের মতো একই রকম ভাবে অত্যাধিক  মদ্যপানের জন্য মাল্টি অর্গান ফেলিওরের কারণে ২০০৮ সালে ঘুমের মধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 


বিশেষ কথা

অভিনেতা রজনীকান্তের সাথে তার কেমিস্ট্রি যথেষ্ট পছন্দ হয়েছিল দর্শকদের। রজনীকান্ত রঘুবরণের অভিনয়ের একজন ভালো প্রসংশক ছিলেন। শোনা যায় রজনীকান্তের নির্দেশেই শিবাজী ছায়াছবিতে রঘুবরণ কে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল।

তার বলিউডে আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ইজ্জতদার ছায়াছবি দিয়ে। ধীরে ধীরে তিনি হিন্দিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আর হিন্দিতেও তিনি বেশ কিছু ছায়াছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে জাতীয় স্তরে জনপ্রিয়তা পেলেন রাম গোপাল বর্মার গ্যাংস্টার মুভি শিবা তে অভিনয় করে। যেখানে তিনি গ্যাংস্টার ভবানী র চরিত্রে অভিনয় করে বলিউড সিনেমা প্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন।

একজন কঠোর খলনায়ক এর পেছনে যে একজন নরম হৃদয়ের শিল্পী লুকিয়ে ছিল, সেটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরই কম্পোজ করা ছয়টি গান প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা রজনীকান্ত, তাঁর স্ত্রী রোহিনী এবং তার পুত্র ঋষি।


আজকের লেখাটি (দক্ষিণের সেরা খলনায়ক রঘুবরণ এর জীবনী, South Indian actor Raghuvaran biography) ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমাদের মন জংশন ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ