বিখ্যাত গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী (Ramkumar chattopadhyay biography bangla)

রাম_কুমার_চট্টোপাধ্যায়_জীবনী
Picture source: xwhos.com


বিখ্যাত গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়


বাবা গান পছন্দ করতেন না। তিনি ছিলেন পোস্ট অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মী। তিনি বলতেন পোস্ট অফিসে চাকরি করো। তবু ভাগ্যই তো শেষ কথা বলে। তার দাদু একজন শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী হওয়ায় সাথে সাথে খুব ভালো মানের টপ্পা গাইয়ে ছিলেন। তিনিই রামকুমার চট্টোপাধ্যায় কে গানের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।


টপ্পা গান

সেসময় বহু নামি দামি গুণী শিল্পীরা তাদের বাড়িতে যেতেন। তবে দাদুর কথা মতো টপ্পা গান গাইতে তার বড়ই অসুবিধা হতো। তিনি বলতেন এগুলো কোন ভদ্রলোকের গান নাকি। এগুলো আমি গাইতে পারি না। ভালো কোন কথাওয়ালা গান দাও। কিন্তু ধীরে ধীরে দাদুর কথাই মেনে নিলেন, এবং এই গানের সাথে তার সঙ্গীত জীবন প্রবাহিত হল। 


তবলা

তবে প্রথম দিকে তিনি গানের জগতে আসতে চাননি। বেশ ভাল তবলা বাজাতে পারতেন। তবলা বাজানো শিখে ছিলেন এবং তাতে তার বেশ নামও ছড়িয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি তবলা ছেড়ে গানের দিকে এগোলেন। তখন অবশ্য তিনি গুনগুন করে বাড়িতেই গাইতেন। ধীরে ধীরে তিনি পাবলিকলি গাওয়া শুরু করলেন যখন তার বয়স হবে প্রায় ১৮ কি ১৯ বছর।


রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এর জন্ম

রামকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২১ সালে উত্তর কলকাতার দর্জিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে সংগীতের চর্চা ছিল। 


শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঠ

প্রথমদিকে তিনি গায়ক হবেন এমনটা ভাবনা ছিলনা। শুরুর দিকে তিনি তবলা বাজাতেন আর বেশ নামও করেছিলেন চারিদিকে তবলা বাদক হিসেবে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি গানের জগতে প্রবেশ করলেন। তিনি বিষ্ণুপুর ঘরানার গায়ক যতীন চ্যাটার্জির কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঠ নেন। এরপর তিনি টপ্পা গান শিখেছিলেন জিতেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।


আকাশবাণী তে গান শুরু

দাদাঠাকুর নামে পরিচিত শরৎচন্দ্র পণ্ডিত একটি সংক্ষিপ্ত ভয়েস টেস্ট নেন রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের, এবং সেই টেস্ট তিনি পাস করার পর তাকে রেডিও স্টেশনে গায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। গান গাওয়া শুরু করেন আকাশবাণী তে। গান প্রতি তাকে সেসময় পাঁচ টাকা করে দেওয়া হতো।



আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য



কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাছেও তিনি গান শিখেছেন এবং তার সঙ্গে তবলা বাজিয়েছেন।


বাংলা ছায়াছবিতে

টপ্পা গান ছাড়াও শ্যামা সংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত ও পুরাতনি বা বৈঠকি গান পরিবেশন করে তিনি সকলের মন জয় করেছেন। তার মিউজিক ক্যারিয়ারে তিনি বহুবার বাংলা ছায়াছবিতে কন্ঠ দিয়েছেন এবং দর্শকদের মন জয় করেছেন। 


তিনি দুটি বাংলা চলচ্চিত্র যথাক্রমে স্ত্রীর পত্রপরিক্রমা এর জন্য সঙ্গীত সৃষ্টি করেছেন।


রামকুমার চ্যাটার্জির গাওয়া সেরা কিছু গান গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দে মা আমায় তবিলদারি, কাদের কুলের বৌ, এসো মা এসো, যাবে যদি যাও, আয় মা দুর্গা রানী, দে মা আমায় রাজা করে ইত্যাদি।


জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি তার গানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন তার শিষ্যদের মধ্যে। তার পুত্র শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় একজন নামকরা শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী।


কর্মজীবন

তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি গওহরজান, আঙ্গুরবালা, শিশির ভাদুড়ী, ছবি বিশ্বাস সহ বিভিন্ন সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের অনেক বড় এবং বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।


রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এর জীবনাবসান

বুধবার ১৯ মার্চ ২০০৯, বেলভিউ হাসপাতালে সেপ্টিসেমিয়া এবং মাল্টি অরগান ফেইলিওর হয়ে চির বিদায় নিলেন রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 


আজকের লেখাটি (বিখ্যাত গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী) ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমাদের মন জংশন ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ