বলিউডের কিছু সেরা বাইক দৃশ্য (Bollywood and bike scenes bangla)

বলিউডের_কিছু_সেরা_বাইক_দৃশ্য


সেরা বাইক দৃশ্য

বলিউডের সঙ্গে বাইকের সম্পর্ক বহু পুরনো। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই বাইকের সাথে। বলিউডের অনেক অভিনেতা তাদের অভিনয় জীবনের পথ চলা শুরু করেছেন বাইকের হাত ধরে।

সেই সমস্ত দৃশ্য সম্পর্কে আলোচনা শুনলেই মনে পড়ে যায় সেই সমস্ত সিনেমাগুলোর কথা। যা আমরা দেখে এসেছি অথচ সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই ভুলে গেছি। চলুন মনে করার চেষ্টা করি সেই সমস্ত বিখ্যাত দৃশ্য যা বাইকের সঙ্গে দৃশ্যায়িত হয়েছিল। 


বাইক ও বন্ধুত্ব

বলিউডের কিছু সেরা বাইক দৃশ্য সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় শোলে ছায়াছবির সেই বাইক এর কথা। যেটার দুটো নয়, তিনটে চাকা ছিল। যেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল MYB 3047।

যখন দুই বন্ধু বিরু এবং জয় জেল থেকে পালালো এবং একজনের বাইক তারা চুরি করলো। সে সময় তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হয়েছিল সেই বিখ্যাত গানের মাধ্যমে "ইয়ে দোস্তি, হাম নেহি তোরেঙ্গে"। একবার চোখ বুজে মনে করুন শোলে ছায়াছবির সেই দৃশ্যের কথা।

শোলে ছায়াছবি টি রিলিজ হয় ১৯৭৫ সালে। আর এই বাইকটির সাথে আরেকটি চাকা লাগানো সাইড কার যুক্ত করে অর্থাৎ আরেকজনের বসার জায়গা তৈরি করে বাইকটিকে একটি অন্যরকম লুক দেওয়া হয়েছিল। যা যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন ছিল।


বাইক ও জীবন জয়ের গান

আর একটি দৃশ্যের কথা মনে করুন, যেখানে একজন মোর দ্যান সিক্স ফুট টল, হ্যান্ডসাম, লাইট ব্রাউন কালারের জ্যাকেট পরে ব্যস্ত রাস্তার মাঝ বরাবর সজোরে বাইক চালিয়ে আসছেন। আর গাইছেন জীবন জয়ের গান "রোতে হুয়ে আতে হ্যায় সব, হাসতা হুয়া জো যায়েগা"। 

কি মনে পড়ে গেল তো। চোখের সামনে ভেসে উঠলো তো শাহিনশা অফ বলিউড অমিতাভ বচ্চনের বাইক চালানোর সেই বিখ্যাত দৃশ্য।

যখন এক ফকির বাবার কাছ থেকে বাচ্চা ছেলেটি তার দুঃখ ভোলার জন্য জোরে হাসার কৌশল রপ্ত করলো। তখনই তার অন্ধকারময় জীবনের দৃশ্য পরিবর্তন হলো। আর মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ছুটলো বাইক। ইতিহাস হল সেই গান ও দৃশ্য।

মুকাদ্দার কা সিকন্দর রিলিজ হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। আর যে বাইক টি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির নাম ছিল ইয়ামাহা ডি টি ১২৫।


কি, করে দিলাম তো নস্টালজিক। আরো কিছু আছে। তাই সাথে থাকুন।



আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য



বাইক ও হিরোগিরি

এবারে আর রাস্তায় নয়। সোজা কলেজে। তাও আবার হিরোগিরি দেখাতে। হিরোগিরি দেখানো অর্থাৎ কলেজের বিপক্ষ গ্যাং লিডারকে বোঝানোর জন্য যে "হিরো এসে গেছে"। আর হিরো এন্ট্রি নিয়েছে একটা নয়, দু দুটো বাইকে চড়ে। 

এই অসম্ভব যে সম্ভব ছিল সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন তখনকার নবাগত অভিনেতা অজয় দেবগন। আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে তার ডেবিউ ফিল্ম "ফুল অর কাটে" তে। এখানে তিনি অসাধারণ একটি স্টান্ট দেখিয়েছেন।

তিনি কলেজে প্রবেশ করলেন, বাইক চালিয়ে নয়। বাইকে দাঁড়িয়ে। দুটি বাইক পাশাপাশি একই গতিতে চালানো হয় এবং দুটিতেই পা রেখে অজয় দেবগন ঢুকলেন কলেজে। রাস্তা স্প্লিট হওয়ার সময় তিনি দুটো পা পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ফ্লাট করে সেই বাইকের স্টানটি আরো রোমাঞ্চকর করে তুলেছিলেন।

এই স্টান্ট এর কো অর্ডিনেটর ছিলেন তার বাবা বিরু দেবগন। এখানে তিনি দুটো গতি সম্পন্ন বাইকে দাঁড়িয়ে ব্যালেন্স করে ফ্লাইং ফিস ছুড়তে ছুড়তে ঢুকেছিলেন। এরকম অভিনব দৃশ্য প্রথম দেখেছিল বলিউড।

ফুল অর কাটে রিলিজ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। আজ থেকে প্রায় 30 বছরেরও আগে এরকম একটি বাইক স্টান্ট জাস্ট ভাবাই যেত না। সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছিলেন অজয় দেবগন।


বাইক ও জমাটি এন্ট্রি

আবার সেই মুম্বাইয়ের ব্যস্ত রাস্তায় বাইক নিয়ে এন্ট্রি। আর এমনই এন্ট্রি যে সোজা ঢুকে পড়লেন কোটি কোটি বলিউড সিনেমা প্রেমির হৃদয়ে। আর রাজ করলেন "কিং অফ বলিউড" হয়ে। 

দিবানা সিনেমার মাঝে মাঝি সময় শাহরুখ খানের এন্ট্রি হল ইয়ামাহা এর একটি স্পোর্টস বাইকে। লাইসেন্স নম্বর ছিল MH 03 A 7755। সুদর্শন একজন যুবক, তার সাথে গালে টোল খাওয়া ভুবন ভুলানো হাসি। পড়েছিলেন ব্ল্যাক জ্যাকেট উইথ হোয়াইট টি শার্ট। সাথে ছিল তার কিছু বন্ধু। আর গেয়েছিলেন সেই বিখ্যাত গান "কোই না কই চাহিয়ে, পেয়ার করনে ওয়ালা"। 

দিবানা ছায়াছবি রিলিজ হয় ১৯৯২ সালে। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে। কিন্তু আজও কত উজ্জ্বল, কত প্রাণবন্ত মনে হয় দিবানা ছায়াছবির সেই গানের দৃশ্য এবং বাইকে শাহরুখ খানের এন্ট্রি।


এমনই সব বহু বাইক নির্ভর দৃশ্য সমৃদ্ধ আমাদের বলিউড সিনেমা গুলো আজও আমাদের নস্টালজিক করে দেয়। বলিউড সিনেমায় বাইকের ব্যবহার যেমন আগেও হয়েছে, তেমন আজও হয়ে চলেছে সমানভাবে।  

আজকের লেখা টি ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমাদের মন জংশন ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ