বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী অমর পাল এর জীবনী

লোকসংগীত শিল্পী অমর পাল
Picture source: raaga.com


বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী অমর পাল

বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া তে ১৯২২ সালের ১৯ মে জন্ম হয়েছিল লোকসংগীত শিল্পী অমর পালের। ছোট্ট অমরের পড়াশোনার প্রতি তেমন একটা টান না ছিল না। ছোট থেকেই তাঁর সংগীতের প্রতি টান ছিলো প্রবল। সুযোগ পেলেই গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনতে বসে যেতেন। মা দুর্গাসুন্দরী পালের কাছে প্রথম সংগীতের শিক্ষা পান। এরপর উস্তাদ আলাউদ্দিন খানের ছোট ভাই, জনাব আয়াত আলি খান-এর কাছে তালিম নেওয়া শুরু হয়। 


সংসারের দায়িত্ব

মাত্র 10 বছর বয়সে তার বাবা মহেশ চন্দ্র পালকে হারান। তার বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয় ছোট্ট অমর। 1938 সালে মাত্র 16 বছর বয়সে গানপাগল অমর ছুটলেন কলকাতা। কিন্তু কিছুদিন পর আবার ফিরে আসলেন। আবার 1942 এ পাড়ি দিলেন কলকাতা। তখনও থাকা হলো না। আবার ফিরে আসলেন বাংলাদেশ।


কলকাতার উদ্দেশ্যে

1948 সালে স্বাধীনতার পর কলকাতায় চলে আসলেন শচীন্দ্রনাথ ভৌমিক এর হাত ধরে। 1951 সালে অডিশন দিলেন এবং পাস করলেন। সুযোগ পেলেন আকাশবাণীতে গান গাওয়ার। তিনি প্রথম শিল্পী যিনি আকাশবাণী থেকে প্রথম লোকসঙ্গীতের পরিবেশন করেছিলেন শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে।


পরিচালকদের সঙ্গে কাজ

এরপর থেকে তার সঙ্গীর সফর শুরু হয়। একের পর এক জনপ্রিয় লোকসংগীত সহ বিভিন্ন সিনেমাতেও তিনি তার কণ্ঠের জাদু দিয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খ্যাতনামা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। সত্যজিৎ রায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে ঋতুপর্ণ ঘোষ সহ অনেক খ্যাতনামা পরিচালকদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করেছেন।



আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য



কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা হীরক রাজার দেশে গাইলেন "কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়"। যা আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। গানটি রেকর্ডিং এর জন্য স্টুডিওতে তিনি গান শুরু করলেন। আপন ছন্দে গান গাইলেন এবং শেষ করলেন। শেষ করার সাথে সাথেই মহান পরিচালক সত্যজিৎ রায় বলে উঠলেন "ওকে"। গান সমাপ্ত করে অমর পাল সংকোচ বোধ করছিলেন, যে এক টেকেই গান সম্পন্ন হল, নাকি আবার গাইতে হবে? সত্যজিৎ রায়ের অর্ধাঙ্গিনী ছিলেন স্টুডিও তে, তিনি এসে অমর পাল কে বললেন "খুব সুন্দর হয়েছে"।


জনপ্রিয় গান

অন্যান্য ধরনের গান গাইলেও প্রভাতী এবং ভাটিয়ালি গান তার কন্ঠের জাদুতে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন যেমন 'হরি দিন তো গেল’, 'প্রভাত সময়ে’, ‘জাগো হে এ নগরবাসী’, ‘রাই জাগো’, ‘প্রভাতে গোবিন্দ নাম’, ‘রাই জাগো গো’, ‘মন রাধে রাধে’, ‘বৃন্দাবন বিলাসিনী’, ‘জাগিয়া লহো কৃষ্ণ নাম’, ‘আমার গৌর কেনে’, ‘আমি কোথায় গেলে’ ও আরো অনেক।


সম্মান ও পুরস্কার

বিশ্বব্যাপী লোকসঙ্গীতের বিভিন্ন সংগীত অনুষ্ঠানে অমর পাল যোগ দিয়েছেন এবং ভারতকে রিপ্রেজেন্ট করেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীত একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অমর পাল ভারত সরকারের সংগীত-নাটক আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে লালন পুরস্কার ও সংগীত মহাসম্মান পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডিলিট উপাধি দিয়েছে। এছাড়া জীবনে অনেক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন।


ব্যক্তিগত জীবন

অমর পালের সহধর্মিণীর নাম পুতুল রানী পাল। তাদের 5 সন্তান আছে। এছাড়াও তিনি তার বহু সন্তান সম ছাত্র ছাত্রীদের গান শিখিয়েছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি বলেছেন তার জীবনে আর কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি জীবনে সব পেয়েছেন। কোন দুঃখই নেই তার জীবনে। এটি মনে হয় একজন শিল্পী এবং মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


চলে গেলেন অমর পাল

2019 সালের 20 এপ্রিল সেরিব্রাল অ্যাটাক হয় ও এসএসকেএম হসপিটাল এ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী অমর পাল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল 97 বছর।


আজকের লেখা টি ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমাদের মন জংশন ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ