পৃথিবী বিখ্যাত গোয়েন্দা শার্লক হোমসকে খুন করালেন স্যার আর্থার কোনান ডয়েল

স্যার_আর্থার_কোনান_ডয়েল
Picture source : flikr.com



পৃথিবী বিখ্যাত গোয়েন্দা শার্লক হোমস রচয়িতা


ডাক্তার যখন ছুরি-কাঁচি ছেড়ে হাতে কলম তুলে নেন তখন বোধহয় পৃথিবী বিখ্যাত গোয়েন্দা জন্ম নেয়। ঠিকই তাই, বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমস চিকিৎসক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল কর্তৃক সৃষ্ট। চিকিৎসা জীবন শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। হাতে ছিল অফুরন্ত সময়। সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে তিনি তার কল্পনাদের বন্দি করেছিলেন খাতার পাতায়। জন্ম দিয়েছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা শার্লক হোমসের।

1859 এর 22 শে মে স্কটল্যান্ডে জন্ম হয় শার্লক হোমস এর রচয়িতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এর। জন্ম হয়েছিল রক্ষণশীল পরিবারে।


কর্ম জীবন

ডাক্তার হওয়ার পর রোগীর সংখ্যা খুব একটা ভালো ছিল না। প্রথমদিকে তো একদমই না। ধীরে ধীরে তার রোগী হতে থাকে। তবে তাও খুব চোখে পড়ার মতো ছিল না। এর পরে তিনি চোখের ডাক্তার হওয়ার জন্য চোখ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে এতেও তেমন কিছু লাভ হয়নি। এছাড়াও তিনি জীবনে ওকালতি করেছেন, ভালো ক্রিকেট খেলেছেন, এমনকি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন দু বার, অবশ্য দুবারই হেরে গেছেন।


প্রথম উপন্যাস

কোনান ডয়েল ১৮৮৭ সালে 'আ স্টাডি ইন স্কারলেট' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে সাহিত্যের আঙ্গিনায় আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন শার্লক হোমসের। তবে প্রথম উপন্যাস তেমন কিছু সাফল্য আনেনি আর রোজগারও হয়নি বলার মত। মাত্র 25 পাউন্ড এর মত রোজগার এনে দিয়েছিল প্রথম উপন্যাস। তবে কিছু মানুষের অবশ্যই নতুন গোয়েন্দা চরিত্রটি ভাল লেগেছিল।

সেই সুবাদে তিনি লিখেছিলেন দ্বিতীয় উপন্যাস। এটিও বেশ পছন্দ হলো মানুষের। তবে সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। তাই সাহস করে দ্য স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনে শার্লককে নিয়ে একের পর এক ছোটগল্প লিখতে শুরু করেন তিনি।


আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য



চরিত্রটি কল্পিত

আপাতদৃষ্টিতে শার্লক হোমস চরিত্রটি কল্পিত মনে হলেও এর পেছনে একজন মানুষের ভাবনা কাজ করেছে লেখক কোনান ডয়েলের মনে। তার নাম প্রফেসর জোসেফ বেল। তিনি কোনান ডয়েলের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক শিক্ষক।

শার্লক হোমসকে নিয়ে লিখতে লিখতে একসময় অধৈর্য হয়ে পড়লেন তিনি। ১৮৯১ সালে মাকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, “আমি হোমসকে খুন করানোর চিন্তা করছি... সে আমার মাথা থেকে অন্যান্য জিনিসগুলোকে বের করে দিচ্ছে।”


স্ট্রান্ড ম্যাগাজিন

তিনি আরো চেষ্টা করলেন যেভাবেই হোক এই গল্প লেখা তিনি বন্ধ রাখবেন। এজন্য তিনি দা স্ট্রান্ড ম্যাগাজিনের সম্পাদকের কাছে প্রত্যেকটা গল্প কিছু 50 পাউন্ড এর দাবি করলেন। আর অদ্ভূত ব্যাপার সম্পাদক সেটা মেনেও নিলেন। এখানেও তিনি শার্লক হোমসকে আটকাতে পারলেন না।

তবে তার সাথে চুক্তি হয়েছিল প্রত্যেকটি গল্প 50 পাউন্ড এবং অন্তত ছটি গল্প তাকে লিখতেই হবে। যাহোক খুব কষ্ট করে তিনি ছটি গল্প লিখে ফেললেন। কিন্তু দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেন আর নয় শার্লক হোমস। তাই তিনি ম্যাগাজিনকে জানিয়ে দিলেন যদি গল্প লিখতেই হবে পরবর্তী বারোটি গল্পের জন্য তিনি নেবেন 1000 পাউন্ড।

আর এখানেও অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। সম্পাদক সেটি মেনে নিলেন। কারণ শার্লক হোমসের জন্য দা স্ট্র্যাণ্ড ম্যাগাজিন তখন রমরমিয়ে চলছে। যাহোক 1000 পাউন্ড মানে সোনার ডিম হাতে পাওয়ার সমান। তাই হাজার মানসিক কষ্ট থাকলেও তা স্বীকার করে নিলেন কোনান ডয়েল। লিখলেন আরো 12 টি অসাধারণ গল্প।


মৃত্যু হলো সেরা গোয়েন্দার

শেষমেষ তিনি ‘দ্য ফাইনাল প্রবলেম’ গল্পে নির্মাণ করলেন শার্লকের সবচেয়ে বড় শত্রু, প্রফেসর মরিয়ার্টির চরিত্রটি। মরিয়ার্টিকে দিয়েই রাইকেনবাক জলপ্রপাত থেকে শার্লককে ফেলে দিলেন নিচে। মৃত্যু হলো পৃথিবীর সেরা গোয়েন্দার।

আর তারপর, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত মানুষ বলা যায় শার্লক হোমসের অন্ধ ভক্তরা শার্লককে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাতে শুরু করল। পাঠকের ক্রোধানলে জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে লাগলেন কোনান ডয়েল। দ্য স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকেও ক্রমাগত চাপ আসতে লাগল। কারণ শার্লকের মৃত্যুর পর যে তাদের সাবস্ক্রিপশন তলানিতে এসে ঠেকেছে।


পুনর্জন্ম

পাঠকের চাপে শেষমেশ ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য এম্পটি হাউজ’ গল্পে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে আনলেন শার্লককে।


নাইটহুড উপাধি

কোনান ডয়েল নাইটহুড উপাধি পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের রানীর কাছ থেকে। আর এই উপাধি পাওয়া মাত্রই তার নামের আগে স্যার যুক্ত হলো। একটি মজার বিষয় হল, অনেকের ধারণা তিনি নাইটহুড পেয়েছিলেন শার্লক হোমস লেখার জন্য। আসলে তিনি নাইটহুড পেয়েছিলেন বোয়ার যুদ্ধের উপর লেখা তার নন-ফিকশন রচনাগুলোর জন্য।


পরিবার

1885 সালে ডয়েল লুইসা হকিন্স কে বিয়ে করেছিলেন। তিনি ডয়েলের একজন রোগীর পরিচিত ছিলেন। লুইসা যক্ষ্মায় ভুগছিলেন। 1907 সালে লুইসার মৃত্যুর পরের বছর, তিনি জিন এলিজাবেথ লেকিকে বিয়ে করেন। ডয়েল প্রথম এবং দ্বিতীয় মিলে পাঁচ সন্তানের পিতা।


সাহিত্য রচনা

কোনান ডয়েল কিন্তু অন্যান্য গল্প, সাহিত্য রচনা করেছেন জীবনে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি লিখেছেন শার্লক হোমস চরিত্রটি নিয়ে। শার্লক হোমসকে নিয়ে লেখা তার গল্পের সংখ্যা ৫৪টি, উপন্যাস ৪টি।


মৃত্যু

7 ই জুলাই 1930 সালে তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে 71 বছর বয়সে মারা যান।


আজকের লেখা টি ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। এছাড়াও আমাদের ইউটিউব চ্যানেল মন জংশন এ ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ