রেলের টাইম কিপার থেকে বলিউডের প্রথম সুপারস্টার কে এল সহগল

কে_এল_সাহগল_এর_জীবনী
Picture source : en.wikipedia.org


কে এল সহগল


আজকের গল্পের নায়ক এবং গায়ক কে এল সহগল। যাকে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির সর্বপ্রথম সুপারস্টার বলা হয়। 

11 এপ্রিল 1904 সালে জম্মু-কাশ্মীরের নওগাঁ শহরে জন্ম হয় কুন্দন লাল সায়গল এর।

10 বছর বয়সে যুবক কুন্দন গলা ব্যথার কারণে প্রায় দুই বছর গান গাইতে পারেননি। সায়গল এর বাবা অমর চাঁদ সায়গল ছিলেন স্থানীয় আদালতের কেরানি, যিনি তার তৃতীয় পুত্রের ব্যাপারে সম্পুর্ণ উদাসীন ছিলেন।

কুন্দন তার মা কেসার কৌর এর থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। তাঁর মা ছিলেন ভজন গায়িকা।


মহান গায়ক


একজন সুফি সাধক শিশু কুন্দনকে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং মা কেশর কৌরকে একটি ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়েছিলেন, যে তার ছেলে একদিন "মহান গায়ক" হবে।

খুব কম বয়সে সায়গল স্কুল ছেড়ে দেন এবং অর্থ উপার্জনের জন্য রেলেওয়ে টাইম কিপার এর কাজ শুরু করেন।


চাকরি


কয়েক বছর এই চাকরি করার পর তিনি হিমাচল প্রদেশের সিমলাতে একটি থিয়েটারে কাজ করার জন্য চলে যান।

থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করার সাথে সাথে তিনি সিমিলার একটি টাইপরাইটার কোম্পানির হয়ে সেলসম্যানের কাজ শুরু করেন। তবে এই কাজও তিনি কয়েক বছর পর ছেড়ে দেন এবং উত্তরপ্রদেশের কানপুরে চলে আসেন। এখানে এসে তিনি একটি শাড়ির দোকানে কাজ শুরু করেন।






কলকাতায় আসার সুযোগ


1930 এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি মেহর চাঁদ জৈন নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচিত হন এবং তার সাহায্যে তিনি কলকাতায় আসার সুযোগ পান। কলকাতায় এসে বিভিন্ন মহফিলে নবীন গায়ক হিসেবে গান গাওয়ার এবং নিজের প্রতিভার প্রদর্শন করার সুযোগ পেয়ে যান।


নিউ থিয়েটার


কলকাতায় থাকাকালীন তিনি নিউ থিয়েটার এর মালিক বি এন সিরকার এবং মিউজিক ডাইরেক্টর রাই চাঁদ বরালের সঙ্গে পরিচিত হন। তবে প্রাথমিক পর্বে সুযোগ পাননি। রাইচাঁদ বড়াল তার হয়ে অনেক অনুরোধ করেন মালিক বি এন সিরকার কে।

শেষ পর্যন্ত তাঁর কথা রেখে তিনি সায়গল কে তাঁর ফিল্ম স্টুডিও তে সুযোগ দেন এবং মাসে 200 টাকা পারিশ্রমিক দিতে রাজি হন।


ফ্লপ হয়ে যায়


তাঁর প্রথম তিনটি ছবি মোহাব্বত কে অন্সু, জিন্দা লাশ ও সুভহ কা সিতারা সম্পূর্ণভাবে ফ্লপ হয়ে যায়। কিন্তু খুব শীঘ্রই সমস্ত মেঘ কেটে সূর্য উঠলো। তার চতুর্থ সিনেমা পুরাণ ভগত ব্যাপকভাবে সাাড়া ফেলে দেয় দর্শক মহলে এবংবং তার গাওয়া চারটি ভজন সবার হৃদয় চুরি করে নেয়।


অনুকরণ


বলিউডের বিখ্যাত গায়কেরা যেমন মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, মুকেশ তাদের কেরিয়ার শুরুর দিকে কে এল সহগল কে অনুকরণ করে গান করতেন। পরে তারা নিজস্ব গায়িকি তে ফিরে আসেন।


দেবদাস


1935 সালে তিনি জীবনের সেরা কাজ করলেন দেবদাস ছায়াছবিতে। তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি "বলোম আয়ো বসো মোরে মন মে" গানটি গেয়ে সবার হৃদয় জিতে নেন।

বাংলা সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে অবাঙালি হওয়া সত্বেও তিনি বাংলা ভাষা খুব ভালো ভাবে রপ্ত করেছিলেন।

1935 সালে বিবাহ করেন আশা রানী কে।


শেষ কাজ


জীবনের শেষ কাজ করেন 1946 সালে পারবানা ছবিতে। এই ছবিতে কাজ করার পর তিনি নিজেকে ছবির জগৎ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 18 জানুয়ারী 1947 সালে জালান্ধার পাঞ্জাবে মাত্র 42 বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু।


আজকের লেখা টি ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। এছাড়াও আমাদের ইউটিউব চ্যানেল মন জংশন এ ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ