ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান এর অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপনের কাহিনী

ওস্তাদ_বিসমিল্লাহ_খান
Picture source : commons.wikimedia.org


ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান

ভারতের বারানসি এক ঐতিহ্যময় শহর। যেখান থেকে বেনারসি পান, বেনারসি শাড়ি, বিভিন্ন বিগ্রহ, মন্দির, পূজা ইত্যাদির সাথে ভারতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার এক ঐতিহ্যময় বাহক সানাই এর সুর, এখান থেকেই বেজে ওঠে। আর এই সানাই এর জনক ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান এর জীবন নিয়ে আজকের এপিসোড।


শৈশবের দিনগুলো

উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব এর জন্ম ভারতের বারানসিতে, মার্চ ২১, ১৯১৬ সালে।

বাবা পয়গম্বর খান ও মা মিঠানের দ্বিতীয় সন্তান ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব এর জন্ম নাম ছিল কামরুদ্দিন। কিন্তু জন্মের পর তাঁর পিতামহ  নবজাতককে দেখেই বিসমিল্লাহ বলে উঠলেন। আর তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিসমিল্লাহ খান।


সঙ্গীত চর্চা

ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেবের পূর্বপুরুষেরা বিহারের ডুমরাও রাজ্যের রাজ সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে বিহার থেকে তিনি কাকার হাত ধরে বারাণসীতে চলে আসেন এবং এখানেই তার সঙ্গীত চর্চা শুরু হয়। তাঁর সঙ্গীত গুরু কাকা আলী বকস্ বারাণসীর বিশ্বনাথ মন্দিরে নিয়মিত সানাই বাজাতেন।



আরো কিছু কথা


বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও বর্তমান


পান্নালাল ভট্টাচার্য্য র অকাল মৃত্যু ও অজানা তথ্য


গ্রামোফোন রেকর্ডে কুকুরের ছবির ইতিহাস


হেলেন মানেই অসাধারণ নাচ


রেলের টাইম কিপার থেকে সুপারস্টার কে এল সায়গল


পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকুরণ সম্পর্কে অজানা তথ্য



লাল কেল্লা

বিসমিল্লাহ খানের সুর 1947 সালের পূণ্য লগণে নয়াদিল্লির লাল কেল্লার প্রাচীর থেকে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। যেদিন ভারত 200 বছরের পুরনো ব্রিটিশ শাসন থেকে চির তরে মুক্ত হয়েছিল। তিনি 1950 সালের 26 শে জানুয়ারি দেশের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছিলেন।

জানা যায় যে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং গান্ধী পরিবারের সঙ্গে খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রকৃতপক্ষে, সংগীত কিংবদন্তি নেহরু এবং তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন।

বিসমিল্লাহ খান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও  শানাইকে সমগ্র বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এবং নিজের জন্য একটি অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন।


ওস্তাদ উপাধি

সানাইকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বাদনের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে এই অমর শিল্পী ওস্তাদ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

এতো সুনাম অর্জন সত্ত্বেও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন খান সাহেব। সাইকেল রিকশাই ছিল তার চলাচলের মূল বাহন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সঙ্গীত শুধুমাত্র শোনার বিষয়, দেখার বা দেখাবার নয়।


রোমাঞ্চকর তথ্য

সুর কি বারাদরি বইটিতে তার ব্যাপারে একটি তথ্য জানা যায়। একদিন একজন পরিচিত তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি ভারতরত্ন পেয়েছেন এবং সারা পৃথিবীর মানুষ আপনার সাথে দেখা করতে আসে। কিন্তু আপনি সেই পুরনো জামাকাপড় পড়েই রয়েছেন। কোনো রকম পরিবর্তন নেই আপনার জীবন যাপনে। আপনার কি নতুন কিছু পড়তে বা নতুন জীবনে পা রাখতে ইচ্ছা করে না?

তিনি হেসে বলেছিলেন আমার সানাই এর জন্য কিন্তু আমি ভারতরত্ন পেয়েছি। আমার পোশাকের জন্য নয়। জামা তো সেলাই করা যাবে। কিন্তু ঈশ্বর না করুক আমার সুর না ফেটে যায়।


পুরস্কার ও সম্মাননা

সানাইয়ের দিকপাল তথা সুরসম্রাট ও সঙ্গীতজ্ঞ বিসমিল্লা খান জীবনে প্রচুর সম্মান এবং পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ভারতের শ্রেষ্ঠ চারটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে, পদ্মশ্রী (১৯৬১), পদ্মভূষণ (১৯৬৮), পদ্মবিভূষণ (১৯৮০), ভারতরত্ন (২০০১)।

এছাড়াও তিনি পেয়েছেন সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার (১৯৫৬) ও আরও অন্যান্য পুরস্কার।


মৃত্যু

এমন সঙ্গীতজ্ঞ এবং সানাইয়ের দিকপাল ২১ আগস্ট, ২০০৬ সালে বারাণসীর হসপিটালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯০ বছর। তার মৃত্যুতে ভারত সরকার জাতীয় শোক পালন করে।

শেহনাই উস্তাদের 102 তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে, সারা বিশ্ব থেকে সংগীত অনুরাগী এবং শিল্পীরা একত্রিত হয়ে সেই ব্যক্তিকে স্মরণ করেছিলেন যিনি বলেছিলেন: "পৃথিবী শেষ হলেও, সংগীত জীবিত থাকবে"


আজকের লেখা টি ভাল লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। এছাড়াও আমাদের ইউটিউব চ্যানেল মন জংশন এ ঘুরে আসতে পারেন আরো পুরাতনী তথ্য জানার জন্য, ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ